বিদেশী বিনিয়োগ সহজীকরণে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে

বিগত বছরগুলোর অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে বিনিয়োগ অপরিহার্য; বিনিয়োগ ছাড়া কোনো প্রবৃদ্ধি বা কর্মসংস্থান হবে না।

আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকলে উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া যায় না। সেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই আমরা ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে’ রূপান্তরের মূল লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এ লক্ষ্য অর্জনে গত ১০০ দিনে আমরা খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করেছি এবং অর্থনীতিকে পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে একটি পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছি।

আমরা শুধু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই করছি না, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজও সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এ বাজেটে প্রতিফলিত হবে।

সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের কারণে জেপি মরগান চেজসহ লন্ডন ও হংকংভিত্তিক বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে। এ বিদেশী বিনিয়োগকে আরো সহজ করতে আমরা গত ১০০ দিনে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি—এখন থেকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ তুলে দেয়া হয়েছে। সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এরই মধ্যে এই একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

  • বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
  • রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা আনা, করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং রাজস্ব আদায়ের পরিধি বাড়াতে এনবিআর ফেসলেস ও ডিজিটাল কর প্রশাসন গড়ে তোলার কাজ করছে।
  • ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ের কর্মকর্তাদের সম্মানীর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
  • ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ চলছে।
  • সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে এরই মধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
  • অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
  • ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানো, এমপ্লয়েমেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে।
  • বিদেশীি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
  • বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশের সঙ্গে সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।

আরও